একদিকে হাড়কাঁপানো বরফশীতল আবহাওয়া, অন্যদিকে মরুভূমির মতো প্রচণ্ড গরম। চলতি বছরের শীতকালে প্রকৃতির এমন দ্বিমুখী রূপ দেখেছে আমেরিকা। তবে শীতল ও উষ্ণতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে গরম। আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের এই শীতকালটি আমেরিকার (সংলগ্ন ৪৮টি অঙ্গরাজ্য) ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম শীত হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হতে যাচ্ছে।
গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকার পূর্ব ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ যখন কয়েক ফুট বরফ আর হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাথে লড়াই করছিল, তখন পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বইছিল রেকর্ড ভাঙা গরম। অবস্থা এমন ছিল যে, সাউথ ক্যারোলাইনার সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার চেয়েও কলোরাডোর ডেনভারে শীতকালীন রৌদ্রোজ্জ্বল উষ্ণ দিনের সংখ্যা ছিল বেশি। ফিনিক্স, লাস ভেগাস এবং সল্ট লেক সিটির মতো শহরগুলো তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম শীতকাল পার করেছে।

পূর্বাঞ্চলে তীব্র ঠান্ডা থাকলেও সেখানে তুষারপাতের ধরন ছিল ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘স্নোক্রিট’ (Snowcrete)—অর্থাৎ এমন বরফ যা সহজে গলে না। কিন্তু এই স্থানীয় তীব্র শীতও পশ্চিমাঞ্চলের নজিরবিহীন তাপমাত্রাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের এক বিস্ময়কর উদাহরণ। এখন আমাদের সবচেয়ে তীব্র শীতও রেকর্ড-ভাঙা গরমের কাছে নতিস্বীকার করছে।
ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন-ম্যাডিসনের আবহাওয়াবিদ জোনাথন মার্টিন ১৯৪০ সাল থেকে উত্তর গোলার্ধের ‘কোল্ড পুল’ (আকাশের ৫ হাজার ফুট উপরে থাকা বায়ুর স্তর যেখানে তুষার তৈরি হয়) পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, এ বছর এই শীতল বায়ুর স্তরটি ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম আকারে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ওপরের স্তর থেকেই উষ্ণ হয়ে উঠছে, যার ফলে শীতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা কমে আসছে।
শীতকালে তুষারপাত কম হওয়ায় এবং তাপমাত্রা বেশি থাকায় পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে গ্রীষ্মকালে ভয়াবহ খরা ও দাবানলের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরফ না জমলে পাহাড়ের পাদদেশের জলাধারগুলো পূর্ণ হবে না, যা সরাসরি কৃষি ও সুপেয় পানির সংকটে প্রভাব ফেলবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ‘অদ্ভুত শীত’ আসলে আমাদের ভবিষ্যতের এক ঝলক। যদি কার্বন নিঃসরণ কমানো না যায়, তবে সামনের দিনগুলোতে শীতকাল কেবল নামেই টিকে থাকবে, বাস্তবে তা হবে বসন্ত কিংবা গ্রীষ্মের মতো উষ্ণ।
চীনে ভয়াবহ তুষার ধসে নিহত ৮
