ইরানের ভূগর্ভে হামলা চালাতে প্রস্তুত মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

ইরানের মাটির গভীরে সুসংহত ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করার জন্য নিজেদের শক্তিশালী বি-১ (B-1 Lancer) বোমারু বিমানগুলোকে মারণাস্ত্রে সজ্জিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই দানবীয় বিমানগুলোতে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা মজুত করার দৃশ্য দেখা গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ হামলার আগাম সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) ঘাঁটির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অন্তত একটি বি-১ বোমারু বিমানের অস্ত্রাগার থেকে মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে সেখানে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ (JDAM) বা বাংকার বাস্টার বোমা বহনের উপযোগী করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে পেন্টাগন এখন ইরানের সেই সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে চায়, যা সাধারণ মিসাইল দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

বি-১ বোমারু বিমানগুলো সাধারণত শত শত মাইল দূর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। কিন্তু বর্তমানে যে ‘জেডিএএম’ বোমা দিয়ে এগুলোকে সাজানো হচ্ছে, তা নিক্ষেপ করতে হলে বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তুর মাত্র ২৫ মাইলের মধ্যে থাকতে হয়। এর অর্থ হলো, মার্কিন বিমানবাহিনী এখন সরাসরি ইরানের আকাশসীমার গভীরে ঢুকে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পেন্টাগনের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে বড় কারণ হতে পারে-তারা মনে করছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ এরই মধ্যে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে মাত্র ৪০টি বি-১ বোমারু বিমান রয়েছে। ইরানের আকাশসীমার ভেতরে এই বিমান পাঠানো যেমন অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সামরিক পদক্ষেপ, তেমনি এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণও বটে। কারণ একটি বিমান হারানো মানে আমেরিকার জন্য বিশাল সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে এই মারণাস্ত্র প্রস্তুতির মাধ্যমে ইরানকে একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। বার্তাটি হলো-যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিধ্বংসী অস্ত্রগুলো এখন মোতায়েন করা হয়েছে এবং ইরানের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ বা ড্রোন ভাণ্ডারগুলো এখন আর নিরাপদ নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যেকোনো সময় ইরানের মাটির নিচের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সূত্র: সিএনএন

FJ
আরও পড়ুন