কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ১২৮ জন আরোহী নিয়ে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) উড্ডয়নের পরপরই আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ভেতরে থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, পুতুমায়ো প্রদেশের পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি পেরু ও ইকুয়েডর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। লকহিড মার্টিনের তৈরি ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ মডেলের বিমানটি সেনাদের নিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাচ্ছিল। রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে এটি আছড়ে পড়ে।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হুগো আলেহান্দ্রো লোপেজ বারেতো নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত ৬৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ৪ জন সামরিক কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পুতুমায়ো বিভাগের গভর্নর ঝন গ্যাব্রিয়েল মলিনা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ২১ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কয়েক ডজন আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বিমান বাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, আহতদের রাজধানী বোগোতার উন্নত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৭৪টি বেড সম্বলিত দুটি বিশেষ মেডিকেল বিমান পাঠানো হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নয় বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট একটি দুর্ঘটনা। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিশাল আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায় এবং আরোহীদের বাঁচার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে।
কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশক থেকে হারকিউলিস বিমান ব্যবহার করে আসছে। গত মাসেও বলিভিয়ার এল আল্টো শহরে একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩৪
