বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনও দেশের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়ার অধিকার ট্রাম্পের নেই এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বে আরও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আল আরাবিয়া'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের দৈনিক এল পাইস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লুলা এই মন্তব্য করেন। চলতি মাসে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে 'একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে',মূলত এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এমন প্রতিক্রিয়া জানান।
লুলা বলেন, 'ট্রাম্পের কোনও অধিকার নেই সকালে ঘুম থেকে উঠে একটি দেশকে হুমকি দেয়ার।' তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেন, সেখানে যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে বিভাজিত অর্থাৎ একতরফাভাবে এমন হুমকি দেয়া রাজনৈতিকভাবে ও নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
৮০ বছর বয়সী এই বামপন্থি নেতা আরও বলেন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে শক্তিধর দেশগুলোর নেতাদের আচরণে সংযম ও দায়িত্ববোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ক্ষমতার অবস্থান যত বড়, দায়িত্বও তত বড় হওয়া উচিত, নইলে সেই ক্ষমতা আন্তর্জাতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে লুলা ও ট্রাম্পের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্নমুখী। যদিও গত বছর দুই নেতার বৈঠকের মাধ্যমে কিছুটা উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং বাণিজ্য শুল্ক কমানোর মতো অগ্রগতি দেখা যায়, তবুও ব্রাসিলিয়া ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
এদিকে লুলা আবারও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। তার ভাষায়, জাতিসংঘকে সময়োপযোগী করে পুনর্গঠন না করলে এর বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্পেন সফরের আগে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে লুলা জানান, তিনি সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং একটি প্রগতিশীল নেতাদের ফোরামে অংশ নেবেন। বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিতব্য ওই সমাবেশে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা'রও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সূত্র: আল আরাবিয়া
‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী’
যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি পেন্টাগনের
আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শেষ করার তাগিদ তুরস্কের 