যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় ছিল রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের মালিক ও সফল ব্যবসায়ী হিসেবে। তবে সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণ বলছে, তিনি এখন শুধু ধনকুবের নন; সম্পদের বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী প্রেসিডেন্টও।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নৈতিকতা দপ্তরে জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণ বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত এক বছরে ট্রাম্পের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে ডিজিটাল সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক ব্যবসা। এই খাত থেকেই তিনি এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি আয় দেখিয়েছেন। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই এসেছে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। পাশাপাশি তার নামে চালু হওয়া ডিজিটাল মুদ্রা বিক্রি থেকেও যোগ হয়েছে আরও কয়েকশ কোটি ডলার।

তবে নতুন এই আয়ের উৎসের পাশাপাশি ট্রাম্পের পুরোনো ব্যবসাগুলোও আগের মতোই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে থাকা গলফ ক্লাব, অবকাশযাপন কেন্দ্র, হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবন মিলিয়ে গত বছরও তিনি শত শত কোটি ডলার আয় করেছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গলফ ক্লাব ও রিসোর্ট ব্যবসা থেকেই এসেছে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আয়। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবও ছিল তার অন্যতম লাভজনক সম্পদ।

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসা থেকেও নিয়মিত আয় করছেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার আয় হচ্ছে তার।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একসময় ট্রাম্পের সম্পদের মূল ভিত্তি ছিল রিয়েল এস্টেট। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাত ও ডিজিটাল বিনিয়োগ তার সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের উৎসে এই বৈচিত্র্যই তার মোট সম্পদের পরিমাণকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এই সম্পদের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতির হিসাব সমন্বয় করলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সম্পদের মূল্য ছিল আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সম্পদের বর্তমান সমমূল্যও ছিল কয়েকশ কোটি ডলারের মধ্যে। তুলনায় ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ এখন কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

অবশ্য এই বিপুল সম্পদ নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের এত বড় ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজে তার ব্যবসা পরিচালনা করেন না; প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিবারের সদস্য ও নিয়োজিত কর্মকর্তাদের হাতে রয়েছে।

রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্র, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড লাইসেন্সিং এবং সাম্প্রতিক ক্রিপ্টো ব্যবসা, সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সম্পদের বিস্তার এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেই আগে দেখা যায়নি। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

AS
আরও পড়ুন