তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিতে এবার বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চের সামনেই আত্মাহুতির পথ বেছে নিলেন এক তিব্বতি ব্যাক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সেই ব্যক্তি পরে হাসপাতালে মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘিরে তিব্বত প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জরুরি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে শরীরের অধিকাংশ অংশে মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন
নির্বাসিত তিব্বত সরকারের পাশাপাশি নিউইয়র্কভিত্তিক একাধিক তিব্বতি অধিকারকর্মী নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নাম লোবগা রাংজেন, যিনি লোবসাং পালদেন নামেও পরিচিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে থাকা একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বতের পতাকা হাতে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বিপরীতে ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই আগুনে দগ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে দুই ব্যক্তি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ আগে একই অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে তিনি তিব্বতিদের স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিব্বতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয় কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, চীনা সরকার এমন নীতি গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য তিব্বতের ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় ধ্বংস করা।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন কয়েক দিন আগেই চীন নতুন জাতিগত ঐক্য আইন কার্যকর করেছে। নতুন আইনে জাতিগত সংখ্যালঘু অঞ্চলের স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চীনা ভাষার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই আইন নিয়ে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিব্বতি ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে চীনের বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় আরও সংকুচিত হবে। যদিও বেইজিংয়ের দাবি, আইনটি সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৯৫১ সাল থেকে চীনের কমিউনিস্ট সরকার তিব্বত শাসন করে আসছে। বেইজিংয়ের দাবি, তিব্বত বহু শতাব্দী ধরেই চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে তিব্বতের স্বাধীনতাকামীদের কাছে তিব্বতের জাতীয় পতাকা স্বাধীনতার প্রতীক হলেও চীনে সেটি নিষিদ্ধ।
নির্বাসিত তিব্বত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে চীনের শাসনের প্রতিবাদে বহু তিব্বতি আত্মাহুতির পথ বেছে নিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে নির্বাসিত তিব্বত সরকারের প্রধান পেনপা সেরিং গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি লোবগা রাংজেনের আত্মত্যাগকে সম্মান জানালেও তিব্বতিদের জীবন রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাইরে তিব্বতি সমর্থক ও অধিকারকর্মীরা জড়ো হয়ে শোক সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, তিব্বত চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি দিনের সব আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ হওয়ার পর ঘটেছে এবং এতে জাতিসংঘের কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। সূত্র: সিএনএন
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো ইন্দোনেশিয়া
থাইল্যান্ডে ১১ বছরের শিশুর পিকআপ চাপায় ৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু
ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা