চীনে বিক্রির জন্য ইরানের তেল ফুরিয়ে আসছে: বেসেন্ট

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

চীনের কাছে বিক্রি না হওয়া ইরানের অপরিশোধিত তেলের মজুত আর মাত্র প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে খুব শিগগিরই ইরানের তেল ফুরিয়ে যাবে এবং দেশটির কাছ থেকে চীনের আর তেল কেনার সুযোগ থাকবে না।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, চীন ইতোমধ্যে ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। এখন দেশটির জন্য অবিক্রীত তেলের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ব্যারেলে নেমে এসেছে। এই মজুতও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক চাপের অভিযানের নাম অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট উল্লেখ করে বেসেন্ট এটিকে কোনো দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ একসঙ্গে ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

বেসেন্ট বলেন, ইরানের সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখাই ওয়াশিংটনের এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নয়, এমন ধারণা থাকলেও নৌ অবরোধের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সমন্বয় অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে কাজ করছে।

হরমুজ প্রণালি আগামী দুই বছরের মধ্যে তেলশিল্পের জন্য গুরুত্ব হারাতে পারে, নিজের এমন পূর্বাভাসের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন রুট তৈরি করছে। এসব রুট চালু হলে তেল পরিবহনে আর হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে, এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন বেসেন্ট। তার দাবি, প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে এবং ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য যে হুমকি তৈরি করতে পারে, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পরও সেই সক্ষমতা থাকবে না।

এদিকে সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ইরানের অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক যুদ্ধবিষয়ক একটি কমান্ড সেন্টার গঠন করেছে। দেশটির উপ-অর্থমন্ত্রী মোর্তেজা জামানিয়ান রোববার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সংঘাতের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বয় করতেই এই কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থায়নসংক্রান্ত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন বেসেন্ট। তবে তার দাবি, এই ধাক্কা সাময়িক হবে এবং পরবর্তী সময়ে মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ জোরদারের পাশাপাশি ওয়াশিংটন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও ঠেকাতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন বেসেন্ট। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন