মেক্সিকো সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপে বেকায়দায় বাইডেন

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৯:৪৮ এএম

নির্বাচনের আগে মেক্সিকো সীমান্ত নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলো বাইডেন প্রশাসন। শরণার্থীদের ভিড় এবং রাজনৈতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেশের দক্ষিণ সীমান্ত সাময়িক বন্ধ রাখার নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি এ সম্পর্কিত একটি আদেশে সই করেছেন। সীমান্ত বন্ধের নতুন এ আদেশ গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে দিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে কড়াকড়ির পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানদের ঘোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ডেমোক্র্যাটদেরও কেউ কেউ বাইডেনের সমালোচনা করেছেন।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, আদেশ অনুযায়ী, মেক্সিকো সীমান্তে দৈনিক আশ্রয় আবেদন আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেলে অবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ মেক্সিকো সীমান্তে দৈনিক ২ হাজার ৫০০ হাজারের বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হলে সীমান্ত অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যাটি আদেশের উল্লেখ করা সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি, ফলে আদেশ সই হওয়ার পরেই সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ অভিবাসন প্রত্যাশীরা মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

আদেশে বলা হয়েছে, কেউ অনুপ্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে মেক্সিকোয় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আমেরিকায় তাকে আশ্রয়ের কোনোরকম সুযোগ দেওয়া হবে না।

তবে অভিভাবকহীন শিশুরা অবশ্যই এই আইনের অন্তর্গত নয়। অর্থাৎ, তাদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তবে পরিকল্পনা করে নিয়ম মেনে কেউ শরণার্থী হওয়ার আবেদন করতেই পারেন। কিন্তু অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা যাবে না। আদেশে সই করে হোয়াইট হাউজে বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে আজ যে সিদ্ধান্ত নিলাম, রিপাবলিকানরা তা এখন পর্যন্ত নিতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখা আমাদের কর্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মেক্সিকোর এক হাজার ৯০০ মাইলের সীমান্ত। বাইডেনের আমলে এই সীমান্ত দিয়ে রেকর্ড সংখ্যায় অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখন এই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। এপ্রিলে গড়ে দিনে গ্রেপ্তার হয়েছে ৪ হাজার ৩শ জন। আর গত সোমবারেই গ্রেপ্তার হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ জন।

এই গ্রেপ্তারের সংখ্যা তিন সপ্তাহে দিনে গড়ে ১ হাজার ৫০০’র নিচে নেমে আসলে আশ্রয়প্রার্থনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে আদেশে।

HK/WA
আরও পড়ুন