ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতভর এ হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই হামলায় ৪০০ টির বেশি ড্রোন এবং প্রায় ৪০টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দেশজুড়ে বিদ্যুৎ গ্রিড, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাবস্টেশনে আঘাত হানা হয়। এ হামলার সময় তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা মাইনাস ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল জানান, পশ্চিম ইউক্রেনের দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সাবস্টেশন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গ্রিড সচল রাখতে পোল্যান্ডের কাছে জরুরি বিদ্যুৎ আমদানির অনুরোধ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লভিভ, রিভনে, তেরনোপিল ও ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কসহ একাধিক পশ্চিমাঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের সবচেয়ে বড়ো বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড়ো ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অক্টোবর ২০২৫ সালের পর থেকে এটি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর দশম হামলা।
এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক আলোচনার কয়েক দিনের মধ্যেই চালানো হলো। তবে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি। হামলার বিষয়ে মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ইউক্রেনের কাছাকাছি এলাকায় হামলার কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমানবন্দরগুলো আবার চালু করা হয়।
ভূখণ্ড ইস্যুতে অনড় রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধ বন্ধে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র
