ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মার্চ মাসে রুশ সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তারা বলছে, নতুন প্রযুক্তির ড্রোন উৎপাদন ও ব্যবহারের ব্যাপক বৃদ্ধি এই রেকর্ডসংখ্যক হামলার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে।
ইউক্রেনের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে রাশিয়ার মোট ৩৫ হাজার ৩৫১ জন সেনা হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ড্রোন হামলায়, বাকি অংশ এসেছে আর্টিলারি ও ছোট অস্ত্রের আঘাতে। ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের সেনাপ্রধান।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ দাবি করেছেন, এই ক্ষয়ক্ষতির প্রতিটি ঘটনাই যাচাই করা হয়েছে। তার ভাষায়, প্রতিটি হামলার ভিডিও প্রমাণ তাদের সিস্টেমে সংরক্ষিত রয়েছে, যা এই সংখ্যাকে 'নিশ্চিত ক্ষতি' হিসেবে তুলে ধরে।
এই সংখ্যা গত ডিসেম্বরের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন বলছে, চলতি বছরে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপপ্রধান কর্নেল পাভলো পালিসার মতে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে রাশিয়া প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে গড়ে ৩১৬ জন হতাহত হয়েছে, যেখানে গত বছর এই হার ছিল ১২০ জন।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিসেম্বরের পর থেকে রাশিয়া তাদের ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না। যদিও এ বছর ৪ লাখ ৯ হাজার চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল মস্কো, তবে বাস্তবে নিয়োগের হার সেই লক্ষ্যের নিচেই রয়েছে বলে দাবি কিয়েভের।
ইউক্রেনের 'আই ওয়ান্ট টু লিভ' উদ্যোগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাশিয়া দৈনিক গড়ে ৯৪০ জন নতুন সেনা নিয়োগ করেছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১২০ জন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার সেনার ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিকে কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে দেখছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানুয়ারিতে প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হতাহতের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, যাকে তিনি 'অপ্টিমাল লেভেল' হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, তারা ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকেই এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, এত ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ডের পরিমাণও কমে আসছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রুশ বাহিনী দৈনিক গড়ে ৫ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করছে, যা গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৬৬ এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে ছিল প্রায় ১৪ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার।
জেলেনস্কি মনে করেন, এই জনবল সংকটই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পেছনে বড় কারণ। তার দাবি, ইউক্রেন যদি পিছু হটে, তাহলে রাশিয়াকে 'লক্ষ লক্ষ' সেনা হারাতে হবে না এই হিসাব থেকেই মস্কো কৌশল বদলাতে চাইছে। সূত্র: আলজাজিরা
লেবাননে ৪ হাজারের বেশি ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের
লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না: বাকের গালিবাফ
আরব দেশগুলোকে ‘সঠিক পক্ষে’ থাকতে মোজতবা খামেনির আহ্বান
যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপ ইরান: ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার
‘আলোচনায় কোনো কৌশলগত প্রতারণা মেনে নেওয়া হবে না’
বৈঠক উপলক্ষে ইসলামাবাদে ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
