রোগীদের হত্যা করে 'মুক্তি' দিতেন জার্মান চিকিৎসক

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

জার্মানির এক প্রশমনমূলক (নিরাময় অযোগ্য রোগীদের যন্ত্রণা প্রশমন ও সেবাদান) চিকিৎসাসেবার চিকিৎসককে ১৫ রোগী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে।

বার্লিনের একটি আদালত ৪১ বছর বয়সী ওই চিকিৎসককে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ১২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে তাঁর পরিচয় শুধু জোহানেস এম. হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

আদালতে বলা হয়, নিহতদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে। তাঁরা সবাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তবে তাঁদের মৃত্যু আসন্ন ছিল না।

প্রসিকিউটররা জানান, বাসায় গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার সময় রোগীদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধের প্রাণঘাতী মিশ্রণ প্রয়োগ করতেন ওই চিকিৎসক। কয়েকটি ঘটনায় অপরাধের আলামত নষ্ট করতে তিনি আগুনও লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের ঠিক আগে একই দিনে দুই রোগীকে হত্যা করেন তিনি। প্রথমে বার্লিনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ৭৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে এবং কয়েক ঘণ্টা পর পাশের একটি জেলায় ৭৬ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করা হয়। পরে ওই নারীর বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করেন তিনি, যদিও তা সফল হয়নি।

প্রায় এক বছর ধরে চলা বিচারকাজের বেশির ভাগ সময় নীরব থাকলেও গত মাসে আদালতে মুখ খোলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। তিনি ১২ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হত্যার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, তাঁদের কষ্ট ও শারীরিক দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতেই তিনি এমনটি করেছিলেন।

আদালতে তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে এটাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ডে যে কষ্ট সৃষ্টি হয়েছে, সেজন্য ক্ষমাও চান।

তবে প্রসিকিউটররা মনে করছেন, স্বীকারোক্তির বাইরেও আরও বহু হত্যাকাণ্ডে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। বর্তমানে ৭৬টি অতিরিক্ত ঘটনার তদন্ত চলছে। জার্মান গণমাধ্যমের মতে, এসব অভিযোগও প্রমাণিত হলে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রায়ে আদালত চিকিৎসকের অপরাধকে ‘বিশেষভাবে গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে চিকিৎসা পেশায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সাজা শেষে তাঁকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন