জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ঢেউ এবার পৌঁছেছে জার্মানিতে

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধের দাবিতে রাজপথে তরুণেরা; উগ্রপন্থীদের আন্দোলন ব্যবহারের আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ঢেউ এবার পৌঁছেছে জার্মানিতে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির ৩৪টি শহরে আয়োজিত বিক্ষোভে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা করে তরুণদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘জেন জি রেগেল্ট’ (Gen Z regelt) নামের একটি প্রচারাভিযানভিত্তিক সংগঠন। জার্মানির বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জেন-জি আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছে। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নির্বাচনে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে বিক্ষোভের একপর্যায়ে দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

জার্মান কর্তৃপক্ষের ধারণা, হ্যালোইন উৎসবের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভগুলো মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকবে। তবে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

জার্মানির ফেডারেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির উগ্র বামপন্থী মহলের কিছু অংশ এবং বিদেশি উগ্রপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠী বিক্ষোভে সমর্থন সংগঠিত করার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক বলেন, “ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলো আমাদের সবার মনে আছে—লুটপাট, বাড়িঘরে আগুন, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।”

সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুরফুরস্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগাম সতর্কতা হিসেবে দোকানের জানালা কাঠের পাটাতন দিয়ে বন্ধ করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও করেছে।

আয়োজকদের বক্তব্য, ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে তরুণ প্রজন্মের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপই এই আন্দোলনের মূল কারণ। তাদের অভিযোগ, সরকার তরুণদের উদ্বেগের জবাব না দিয়ে বরং ব্যয় সংকোচন এবং নতুন আর্থিক বোঝা চাপিয়ে যাচ্ছে।

মিউনিখের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ১৮ বছর বয়সী স্টিভের। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমাদের উদ্বেগের জবাবে সরকার ব্যয় কমানো এবং আমাদের ওপর আরও বোঝা চাপানো ছাড়া কিছুই করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের উপেক্ষা করা বন্ধ না করা পর্যন্ত আমরা সমবেত হওয়ার মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করে যাব।”

এদিকে জার্মানি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে অবসর গ্রহণকারী বেবি বুমার প্রজন্মের কারণে পেনশন ও জনসেবার ওপর চাপ বাড়ছে। কর্মক্ষম জনসংখ্যাও কমে আসছে।

তবে ‘জেন জি রেগেল্ট’ আন্দোলনটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

জার্মানির জাতীয় স্কুলশিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে (BSK) এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তারা আগামী ২০ নভেম্বর আলাদা প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।

বৃহস্পতিবার বিএসকের মহাসচিব অ্যামি কির্খহফ বলেন, “আমরা ‘জেন জি রেগেল্ট’ থেকে নিজেদের দূরে রাখছি, তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নয়। তাদের উদ্বেগ যৌক্তিক।”

অন্যদিকে বার্লিনের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকার জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরতে তিনি শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেবেন।

সূত্র: রয়টার্স, ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত