ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেয়ার খবর, বাংলাদেশকে কী বার্তা দিচ্ছে?

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ এএম

বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও তাদের অন্য মিশনগুলো থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। 

বর্তমানে দুই দেশের কূটনীতিক সম্পর্কের অবস্থা বিবিসি বাংলার এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশকে এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

দুই পক্ষে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দুই দেশেরই রাজনীতিবিদদের একাংশের বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। এমনকি দুই দেশেই হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সবশেষ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতে আইপিএলে খেলতে না দেয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।

এরইমধ্যে ভারতের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরেক দফা অবনতির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে আসলেই এরকম কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের অন্তত দুইজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, অফিসিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই সিদ্ধান্ত পাননি তারা।

তবে একটি সূত্র বিবিসিকে বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সতর্কতা হিসেবে ভারতীয় মিশনগুলোয় কর্মরতদের উপর নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিবিসি হিন্দির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন বাংলাদেশকে 'পরিবার-ছাড়া' বা 'নন ফ্যামিলি পোস্টিং' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এ ছাড়া, তারা তাদের কূটনীতিকদের পরিবারের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দিয়েছে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের সমান শ্রেণিতে রয়েছে।

বাংলাদেশ কেন ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এই প্রশ্নে বিবিসিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন 'পুরোপুরি দ্বিমত' পোষণ করে বলেছেন, ‘আমরা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছি, এমন কোনো এভিডেন্স (প্রমাণ) নেই।’

নন-ফ্যামিলি পোস্টিং কী?
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনসহ মোট পাঁচটি মিশন থেকে দেশটির কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন অবস্থিত।

বিবিসি হিন্দিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বাংলাদেশকে একটি 'নন-ফ্যামিলি' পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সিদ্ধান্ত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

ভারতীয় মিশনগুলোর কর্মকর্তাদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আট জানুয়ারির মধ্যেই ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

যেসব কর্মকর্তাদের সন্তানরা স্কুলে পড়ে তাদের জন্য অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ পনেরই জানুয়ারির মধ্যে ভারতীয় পাঁচটি মিশনের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করেছে।

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দেশনার ব্যাপারে এখনো আমি কিছু অবগত নই। মানে এ বিষয়ে কোনো ডিসিশন নেওয়া হলে সেটাতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের যেটা দিল্লিতে তারাই নেবে তো তাদের পক্ষ থেকেই জানানো হবে। যদি কিছু এ বিষয়ে জানানোর থাকে মিডিয়াকে বা সেগুলো এনে প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে সেখান থেকেই।’

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেয়নি।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, নন-ফ্যামিলি পোস্টিং ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশকে এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান অথবা সুদানের কাতারে রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিবিসির সংবাদদাতা ইশাদ্রিতা লাহিড়ীকে বলেছেন, ‘যদি ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমান স্তরে রাখে, তাহলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই এটা দুঃখজনক। কিন্তু আমি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারব না। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারত অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’

AHA
আরও পড়ুন