সুরের মঞ্চ থেকে নেপালকে শাসন করতে আসছেন র‍্যাপার ব্যালেন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ পিএম

নেপালের রাজনীতিতে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ‘ভোট-বিপ্লব’। মাত্র চার বছর আগে গঠিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP), যার নেতৃত্বে রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ (যিনি ব্যালেন নামেই অধিক পরিচিত), দেশটির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নেপালের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল এবং শক্তিশালী নেতাদের ধরাশায়ী করে ব্যালেনের এই জয়কে হিমালয় কন্যার নতুন এক ‘অজানার পথে যাত্রা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ব্যালেন শাহর এই জয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ঝাপা-৫ আসন। এই আসনটি নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই দুর্গে ওলিকে পরাজিত করে ব্যালেন প্রমাণ করেছেন যে, নেপালের সাধারণ মানুষ গত কয়েক দশকের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্থবিরতায় ক্লান্ত।

পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং জনপ্রিয় র‍্যাপার ব্যালেন শাহর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা মাত্র তিন বছরের। তিনি বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো দলীয় ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই তরুণ প্রজন্মের আইকন হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ব্যালেন এখন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে সবার শীর্ষে।

ব্যালেন শাহ এবং তাঁর দলের প্রধান এজেন্ডা হলো দুর্নীতি নির্মূল করা। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
১. ১৯৯০ সালের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা সকল নেতার সম্পদের হিসাব তদন্ত করা হবে।
২. অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জাতীয়করণ করা হবে।
৩. বিচার বিভাগ থেকে রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে আদালতের শুনানি লাইভ প্রচার করা।
৪. আমলাতন্ত্রের আমূল সংস্কার করে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ও পদোন্নতি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো।

ব্যালেন শাহর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা। তাঁর দল বছরে ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বেশ উচ্চাভিলাষী। এছাড়া নেপালের ২০ শতাংশ তরুণ বেকার এবং দেশের জিডিপির বড় একটি অংশ আসে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেললে ব্যালেন সরকারকে বড় সংকটে পড়তে হতে পারে।

এদিকে প্রতিবেশী দুই পরাশক্তি ভারত ও চীন ব্যালেনের এই উত্থানকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতোমধ্যেই ব্যালেন শাহকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা ব্যালেন শাহর জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হবে।

তরুণ প্রজন্মের ‘পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে’ পুঁজি করে ক্ষমতায় আসা ব্যালেন শাহ নেপালকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পারেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

DR
আরও পড়ুন