চীনের কাছে কূটনৈতিক নিশ্চয়তা চায় তেহরান

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো চীন সফরে এসে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের দৃঢ়তা যাচাই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকের পর আরাগচি জানান, বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক এগিয়ে যাবে।

আগামী সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যেন চীন তাদের প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে যুদ্ধের সমাপ্তি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য রাজি করায়। বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচি মূলত বেইজিংয়ের কাছ থেকে এই নিশ্চয়তা পেতে এসেছেন যে তেহরান যদি আন্তর্জাতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তবে চীন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে এবং কূটনৈতিক সমর্থন বজায় রাখতে সক্রিয় থাকবে কি না।

একদিকে তেহরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের ক্রমাগত চাপ সব মিলিয়ে বেইজিং এখন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আরাগচির এই সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ অনেকটাই চীনের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে।

SN
আরও পড়ুন