হাদি হত্যা মামলা: 

প্রধান আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে নেওয়া হলো দিল্লিতে 

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের দিল্লিতে নিয়ে যায়।

সোমবার (২৩ মার্চ) কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালত এনআইএ-র আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই আসামিকে দিল্লিতে স্থানান্তরের অনুমতি দেন। এর আগে রোববার (২২ মার্চ) এই আদালতই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিল।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এনআইএ। রাতেই বিশেষ ফ্লাইটে তাদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার তাদের দিল্লির এনআইএ আদালতে হাজির করে পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। তবে এই মামলায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে বর্তমানে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেনি এনআইএ।

আদালতে আনা-নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম মাসুদ হাদি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ‘আমি হাদিকে হত্যা করিনি। সিসিটিভি ফুটেজে আমাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি এবং সেখানে আমি উপস্থিতও ছিলাম না।’

তবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) দাবি করেছে, গত ৭ মার্চ গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছিল।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জনকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীর এবং তাদের পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা গত ৭ মার্চ ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তারা ভারতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের প্রক্রিয়ায় এনআইএ-র নজরদারিতে রয়েছেন।

FJ
আরও পড়ুন