ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ৩১ দিনে পৌঁছেছে। উভয় দেশ একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। বিশ্ব এখন কেবল যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ ও শান্তি আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো যুদ্ধবিরতি আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, যার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান।
একসময় ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়া পাকিস্তান এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইসলামাবাদ এরই মধ্যে যুদ্ধরত পক্ষদের আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য ‘শান্তি আলোচনা’ প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই প্রস্তাব শেয়ার করেছেন।
এ বিষয়ে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে ১৫-দফার মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও খনিজ সম্পদ চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
ট্রাম্প তাকে প্রশংসা করেছেন এবং পাকিস্তানকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় দেশের সীমান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও কাজে এসেছে। ইরানের হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকা অবস্থায় পাকিস্তান ২০টি জাহাজ পারাপারের অনুমতি দিয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দেশকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চাপ থেকে রক্ষা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তান ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি জটিল ‘কূটনৈতিক নৃত্য’ চালাচ্ছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান সম্ভবত এবারও ব্যাক চ্যানেল ভূমিকায় থেকে আলোচনায় অবদান রাখবে।
উল্লেখ, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানকে ‘অসৎ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি।’ সেই পাকিস্তান কীভাবে আবার হোয়াইট হাউসের এত আস্থা অর্জন করল, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে চীন ও পাকিস্তানের আহ্বান
বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ফিফা সভাপতির অনড় অবস্থান
