মোদি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ 'ককরোচ জনতা পার্টি'

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে আবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণদের একটি বিক্ষোভ। ভারতের অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সরকারকে প্রবল চাপে ফেলেছে।  

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তীব্র বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের উৎপত্তি।

জানা গেছে, আন্দোলনের সূত্রপাত গত মে মাসে মেডিকেলের প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' (NEET) সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর জেরে গত ৬ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

গত সোমবার দিল্লির পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়, যেখানে পুলিশের দাবিমতে শতাধিক সদস্য আহত হন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সিজেপির অনুসারী সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ অতিক্রম করেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যে যেখানে বেকার তরুণদের 'পরজীবী' বলা হয়েছিল ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৬ মে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে ব্যঙ্গাত্মক নাম দিয়ে সিজেপি গঠন করেন।

বর্তমানে এই জেন-জি আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীসহ একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও কৃষকনেতা রাকেশ টিকাইত আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় রাহুল গান্ধীকে সাময়িক আটকও করা হয়।

বিতর্ক সামাল দিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আলোচনার আশ্বাস দিলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ইউরেশিয়া গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া প্রধান প্রমিত পাল চৌধুরীর মতে, অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই দ্রুত বিস্তৃত আন্দোলন সামনের দিনগুলোতে সরকারের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

SN
আরও পড়ুন