ফেসবুকে নির্বাচনের বিশেষ রিমাইন্ডারে রহস্যময় সংখ্যার নেপথ্যে কী?

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের সাতসকালে ফেসবুক খুলতেই বাংলাদেশের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে একটি বিশেষ ‘রিমাইন্ডার কার্ড’ ভেসে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট ‘মেটা’র পক্ষ থেকে পাঠানো এই ডিজিটাল বার্তার নিচে থাকা একটি বড় সংখ্যা এবং এর উদ্দেশ্য নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে মেটা জানিয়েছে, এটি মূলত নির্বাচন নিয়ে তাদের একটি বৈশ্বিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ।

রিমাইন্ডার কার্ডে যা থাকছে
ফেসবুকের এই বিশেষ কার্ডে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে নির্বাচনের সঠিক তারিখ (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) উল্লেখ করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগতভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। কার্ডের ঠিক নিচে একটি বিশেষ বাটন রয়েছে, যাতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারী সরাসরি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের লিংকে পৌঁছে যাচ্ছেন।

রহস্যময় সংখ্যার প্রকৃত অর্থ
অনেকেই এই নোটিফিকেশনের নিচে প্রদর্শিত একটি বড় সংখ্যা দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কেউ একে মোট ভোটার সংখ্যা, আবার কেউ একে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান মনে করছেন। তবে মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো দাপ্তরিক পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি ‘এনগেজমেন্ট কাউন্ট’ (Engagement Count)। অর্থাৎ, কতজন মানুষ ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করেছেন বা এই বিশেষ ডিজিটাল কার্ডটির সঙ্গে ইন্টারেক্ট করেছেন, এই সংখ্যাটি মূলত তারই প্রতিফলন।

কেন এই বিশেষ উদ্যোগ?
মেটার ‘ইলেকশন ইনফরমেশন সেন্টার’ বা নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র কর্মসূচির আওতায় এই ডিজিটাল রিমাইন্ডারটি চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে তিনটি মূল লক্ষ্য রয়েছে:
১. সঠিক তথ্যের প্রবাহ: ভোটারদের সরাসরি নির্বাচন কমিশনের লিংকের সঙ্গে যুক্ত করে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা।
২. গুজব প্রতিরোধ: নির্বাচনকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর বা অপপ্রচারের বিস্তার রোধ করা।
৩. নাগরিক সচেতনতা: তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা।

যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
মেটা মূলত ব্যবহারকারীর লোকেশন বা আইপি (IP) ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে নিশ্চিত করে যে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন কি না। যেহেতু আজ বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন, তাই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশভিত্তিক ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে এই বার্তাটি পৌঁছে দিচ্ছে। 

মেটা স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রচার নয়, বরং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ একটি ডিজিটাল রিমাইন্ডার।

নির্বাচন তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটাররা বিভ্রান্তি দূর করে দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন, যা ডিজিটাল যুগে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

DR/AHA
আরও পড়ুন