রাত পোহালেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও টানটান উত্তেজনা। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসন বাদে দেশের বাকি ২৯৯টি আসনের ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। এর মধ্যে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ছেন ২৯০ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ রয়েছে ২২৮টি আসনে।

১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান, যা নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ জন সদস্য মাঠে রয়েছেন। প্রথমবারের মতো নির্বাচনের নিরাপত্তায় ড্রোন ও পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, দেশের ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি ঢাকা থেকে মনিটর করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হচ্ছে, যার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে সংবিধান সংশোধনের একগুচ্ছ প্রস্তাব। দলীয় সরকারের অধীনে টানা তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবারের ভোট নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারাবন্দি ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক জবাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দেশবাসীকে ভয়ভীতিহীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের ফলাফলকে গণতান্ত্রিকভাবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। আমি তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহত যোদ্ধাদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনা করছি।’

আগামীকালকের নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকার নয়; বরং এটি একটি বড় দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সবাই দায়িত্বশীল ও যত্নবান হোন।’ 

এছাড়া, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যালট বক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান বা যেকোনো ধরনের নির্বাচনি অপরাধ ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 

এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। ৩৯২ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি দেশি প্রায় ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। এছাড়া দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার সংবাদকর্মী নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করবেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, ভোটের পর কেন্দ্রেই প্রাথমিক গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে। আশা করা হচ্ছে, অধিকাংশ আসনের ফলাফল কাল মধ্যরাতের মধ্যেই জানা যাবে।

FJ
আরও পড়ুন