সীতাকুণ্ডে গলায় ছুরিকাঘাতে আহত ৭ বছরের সেই শিশুটির মৃত্যু

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইকো-পার্কের দুর্গম পাহাড়ে গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশুটি অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছে। 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির মামা জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। এর আধা ঘণ্টা পরই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গলায় এবং হাতে গভীর ক্ষত ছিল। বিশেষ করে শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারের পর থেকে সে আর কথা বলতে পারেনি।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, শিশুটির গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা শিশুটির ওপর ভয়াবহ যৌন সহিংসতার প্রাথমিক আলামত পেয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

গত রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের প্রায় ৫ কিলোমিটার ভেতরে সড়ক সংস্কারের কাজ চলাকালে একটি স্কেভেটর চালক শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেন। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দেখেন শিশুটির গলা কাটা। তারা নিজেদের কাপড় দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ঘাতককে দেখলে চিনতে পারবে— শিশুটি মৃত্যুর আগে ইশারায় এমনটাই বোঝাতে চেয়েছিল।

নিহত শিশুটির বাড়ি সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদদা (মাস্টারপাড়া) এলাকায়। তার বাড়ি থেকে উদ্ধারস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। সাত বছরের একটি শিশু কীভাবে একা এত দূরে এবং পাহাড়ের গহীনে পৌঁছাল, সেটিই এখন পুলিশের বড় প্রশ্ন। তাকে কেউ অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় গত রোববার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বরোচিত। আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

DR
আরও পড়ুন