আকাশপ্রেমীদের জন্য আজ এক রোমাঞ্চকর দিন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ চলাকালীন চাঁদ রক্তাভ লাল বর্ণ ধারণ করবে, যা মহাকাশ বিজ্ঞানে ‘ব্লাড মুন’ হিসেবে পরিচিত। আজকের পর এমন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখতে দর্শকদের ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কেন এই রক্তাভ চাঁদ?
নাসার তথ্যমতে, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে, তখন সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। বায়ুমণ্ডল নীল রঙের আলোকে বিচ্ছুরিত করে দিলেও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ঠিক যে কারণে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়, একই কারণে গ্রহণের সময় চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়।

গ্রহণের সময়সূচি ও গতিপথ:
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণ গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫।
গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথ উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে যাবে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও মাইক্রোনেশিয়ার বিভিন্ন অংশে এটি দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশ থেকে কখন দেখা যাবে?
বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে কোনো বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই খালি চোখে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ শুরুর সময় নিচে দেওয়া হলো:
- চট্টগ্রাম: বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড
- সিলেট: বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
- রাজশাহী: সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড
- খুলনা: সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড
- বরিশাল: সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড
- ময়মনসিংহ: সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড
- রংপুর: সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড
আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই, তবে দূরবীন ব্যবহার করলে দৃশ্য আরও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’
