মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে নাবিক হত্যার প্রতিশোধ নেবে ইরান

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ভারত মহাসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ তে মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা এবং শতাধিক নাবিক নিহতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। এই ‘নৃশংস’ হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।

শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল হাতামি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আইআরআইএস দেনার ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিশন শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে আমাদের বীর নাবিকদের হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হামলার উপযুক্ত এবং কঠোর জবাব দেবো।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আইআরআইএস দেনার শহীদ ক্রুরা ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে সাহস ও দেশপ্রেমের অমর প্রতীক হয়ে থাকবেন। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি করতে আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ-মহড়া ‘মিলন ২০২৬’ এ অংশ নিয়েছিল ইরানের এই রণতরি। ৭০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিশন শেষ করে নিজ দেশে ফিরছিল জাহাজটি। কিন্তু ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে মোট ১০৪ জন ক্রু ছিলেন, যার মধ্যে ৯৪ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মরদেহ তেহরানের কাছে হস্তান্তর করেছে কলম্বো।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রতিশোধের হুমকি মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

NB
আরও পড়ুন