কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ জানিয়েছেন, ইরান ও তার বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অত্যন্ত সুকৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘অসম যুদ্ধের’ (Asymmetric Conflict) দিকে ঠেলে দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান- বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির উত্তর তীরের নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, ইরান সরাসরি সম্মুখযুদ্ধের পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী এক স্নায়ুযুদ্ধের পথে হাঁটছে, যা অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, “আইআরজিসি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিঘ্ন ঘটিয়ে এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার এক দীর্ঘ খেলা শুরু করেছে। তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, ট্রাম্প বা অন্যরা যেভাবে বলছেন, চাইলেই এই নৌপথ দ্রুত খুলে দেওয়া সামরিকভাবে সম্ভব নয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ। ইরান কোনো প্রথাগত অবরোধ না দিয়েও বীমা বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং বিচ্ছিন্ন ড্রোন হামলার মাধ্যমে এই রুটকে অনিরাপদ করে তুলেছে। ক্রিগের ভাষায়, ইরান তার এই অবস্থানকে এমন এক শক্তিতে পরিণত করেছে যা ধ্বংস করা অসম্ভব, কারণ এটি কেবল একটি সামুদ্রিক পথ নয়, বরং একটি বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে ইরানের এই কৌশল পশ্চিমাদের সামরিক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প মিত্রদের সহায়তা চাইছেন, অন্যদিকে ইরান তার ভৌগোলিক শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের দিন শেষ: ইরানের স্পিকার
