মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের হামলা 

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

এবার চার প্রতিবেশী দেশের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার এবং গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

হামলার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে কাতার। দেশটির বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’ লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্রটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তাদের ‘পার্ল জিটিএল’ স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত ‘সৌদি আরামকো’র সামরেফ (SAMREF) তেল শোধনাগারে একটি ইরানি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ড্রোনটি সরাসরি স্থাপনার ওপর আছড়ে পড়ে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।

কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি এবং মিনা আব্দুল্লাহ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যমতে, মিনা আল-আহমাদিতে সীমিত পরিসরে আগুন লাগলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দৈনিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই শোধনাগারটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘বাব তেলক্ষেত্র’ এবং ‘হাবসান গ্যাস কমপ্লেক্স’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে গ্যাস কমপ্লেক্স ও তেলক্ষেত্রের ক্ষতি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাবসান গ্যাস কমপ্লেক্সের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

একযোগে চার দেশের জ্বালানি খাতে এমন নজিরবিহীন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল-জাজিরা, বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সূত্র: আল–জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন, বিবিসি

FJ
আরও পড়ুন