ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের মাঝেই দেশটিতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন)। এই পরিকল্পনায় ইরানি সেনাদের আটক করা এবং আধাসামরিক বাহিনীকে মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সিবিএস নিউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টিকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দাবি করলেও, এই পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একাধিক সামরিক বিকল্প খুলে দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে চারটি যুদ্ধজাহাজ এবং চার হাজারের বেশি মেরিন সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা এই বিশাল সেনাদল আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
তবে সামরিক প্রস্তুতির আলোচনার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসম্মুখে কিছুটা ভিন্ন সুর বজায় রাখছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি এখনই কোথাও স্থল সেনা পাঠাচ্ছেন না এবং এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে। একইসাথে তেলের বাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযান শেষে বিশ্ব আরও নিরাপদ হবে। ট্রাম্পের মতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তার এই অবস্থানের সাথে একমত।
এদিকে, মার্কিন জনমতের এক ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে। দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযানের নির্দেশ দেবেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মাত্র ৭ শতাংশ মার্কিনি এই ধরনের যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তা সত্ত্বেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগনের এই যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং ট্রাম্পের ‘দ্রুত শেষ করার’ আশ্বাসের মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য লক্ষ্য করছেন বিশ্লেষকরা, যা আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

