বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ‘কুইড প্রো কুয়ো’ বা বিনিময় প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করার শর্তে ইরানকে তথ্য দেওয়া বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে পুতিন প্রশাসন। গত সপ্তাহে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের কাছে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মায়ামির ওই বৈঠকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়ার প্রস্তাবটি ছিল স্পষ্ট-যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার গতিবিধি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানের সঙ্গে তাদের গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করা থেকে বিরত থাকবে। তবে আলোচনার সংবেদনশীলতা এবং ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
যদিও রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই খবরটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর অর্থাৎ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতেই মস্কো এমন চাল চালছে। বিশেষ করে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ন্যাটো মিত্রদের অনীহায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তখন রাশিয়ার এই প্রস্তাব নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে ‘আয়রণ ডোম’ সংক্রান্ত তথ্য ইরানে পাচারের অভিযোগে এক সেনা সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের গুরুত্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউস বা রুশ দূতাবাস এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও ইউক্রেন সংকটকে এক সুতোয় গেঁথে রাশিয়া মূলত পশ্চিমা বিশ্বকে একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে ফেলতে চাইছে।

