যুদ্ধ থামাতে পারেন ট্রাম্প, সেই শঙ্কায় যে পদক্ষেপ নিলেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারে এমন আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ইরানে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে যতটা সম্ভব সামরিক ক্ষতি করতে চান তিনি। এ অবস্থায় কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারে, তাই এর আগেই যতটা সম্ভব ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চান তিনি।

বুধবার (২৫ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলা বাড়াতে বলেছেন নেতানিয়াহু, যাতে ইরানের অস্ত্র শিল্পের বড় অংশ ধ্বংস করা যায়।

মূলত এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা যুদ্ধ-সমাপ্তি পরিকল্পনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সরকার ওই পরিকল্পনার কপি হাতে পাওয়ার পর মনে করেছে, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমাতে যথেষ্টভাবে মনোযোগ দেয়া হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনও সময় শান্তি আলোচনা ঘোষণা করতে পারেন।

তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে একটি পরিকল্পনার কথা তিনি দেখেছেন, তবে সেটি হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেনি। তার দাবি, ‘এতে কিছু সত্যতা আছে, কিন্তু সব তথ্য সঠিক নয়’।

এর আগে গত মঙ্গলবার সামরিক সদর দপ্তরে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই নির্দেশ দেন। সেখানে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাকে ব্রিফ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তাড়াহুড়ার পেছনে একটি বড় বাস্তবতা কাজ করছে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ট্রাম্পের হাতে। ফলে যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর প্রভাব সীমিত।

এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ চান আরও অন্তত এক সপ্তাহ হামলা চালিয়ে বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হোক, আবার কেউ দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনজন কর্মকর্তা বলেছেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য এসেছে প্রথম সপ্তাহেই। এরপর আন্তর্জাতিক চাপ, যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় এবং জনগণের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন।

এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গত সোমবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে বলে জানা গেছে।

NB
আরও পড়ুন