মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে ওয়াশিংটনকে বড় ধরণের ধাক্কা দিল তাদেরই অন্যতম মিত্র দেশ ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পথে মার্কিন সামরিক বোমারু বিমানগুলোকে সিসিলির ‘সিগোনেল্লা’ (Sigonella) বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালি সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ইতালির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘করিয়ের দেলা সেরা’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু বোমারু বিমান পূর্ব সিসিলির এই কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে নামার পরিকল্পনা করেছিল, যেখান থেকে তাদের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার কথা ছিল।
তবে ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনী এই অবতরণের জন্য আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চায়নি এবং ইতালির সামরিক নেতৃত্বকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন বেসগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে স্বাগতিক দেশের সামরিক কমান্ডকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। দেশটির কেন্দ্র-বাম ও অতি-বামপন্থী বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, ইতালিকে যেন কোনোভাবেই এই মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অংশ হতে না দেওয়া হয়। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ইতালির নাগরিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে রাজি নয় বিরোধী পক্ষ।
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোম তাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবে না। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার স্পষ্ট করেছে যে, ভবিষ্যতে যদি মার্কিন বাহিনী পুনরায় ইতালির কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ করে, তবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় সংসদের (পার্লামেন্ট) অনুমোদন নেওয়া হবে।
ইতালির এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের কৌশলগত রসদ সরবরাহ ও বিমান চলাচলে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
হরমুজ অতিক্রম করলো চীনের তিন জাহাজ
জ্বালানি সংকট কাটাতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফ্রান্স ও ইতালি
ইরাক থেকে সব সেনা সরিয়ে নিচ্ছে ইতালি
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ‘এয়ার ডিফেন্স’ পাঠাচ্ছে ইতালি
