ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

দুই দেশেরই বিজয় দাবি, জিতলো কে?

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে নতুন এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ-দুপক্ষই এখন দাবি করছে যে এই যুদ্ধে তাদেরই ‘বিজয়’ হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা কমাতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সরাসরি সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ‘মেহর নিউজ’-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বিরতি মূলত ‘ইরানের বিজয়’। তারা একে যুদ্ধের সমাপ্তি নয় বরং স্থায়ী সমাধানের দিকে একটি সফল প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

এই অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তেহরান ও ওয়াশিংটন এই অস্থায়ী বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে পেরেছে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানানোর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত ও সর্বাত্মক’ বিজয় হয়েছে। 

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আমাদের ১০০ ভাগ বিজয়। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’ এর আগে ট্রাম্প ইরানকে তাদের সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তার মতে, সামরিক চাপের মুখেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনীর কারণেই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। আমাদের সামরিক সফলতাই সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সুবিধা তৈরি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খুলে দিচ্ছে।’

আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া বৈঠকে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করবে বলে জানা গেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

দুপক্ষ নিজেদের বিজয়ী দাবি করলেও মূলত এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে মানবতার বিজয় হয়েছে। এক মাসের এই ভয়াবহ সংঘাতের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এখন দেখার বিষয়, ১০ এপ্রিলের বৈঠক বিশ্বকে স্থায়ী শান্তির দিকে নিয়ে যায় কি না।

FJ
আরও পড়ুন