নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে ১০০তম দিনে যা বললেন মামদানি

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন জোহরান মামদানি। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রশাসনের অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

স্থানীয় সময় রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে কুইন্সের নকডাউন সেন্টারে সমর্থকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ শহর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। একইসঙ্গে প্রথম ১০০ দিনে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জও তিনি স্বীকার করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স-ও। অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই সমর্থকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যা তার জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

মেয়র জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিউইয়র্কে দুটি বড় তুষারঝড় আঘাত হানে, যা জনজীবনকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করে। এ পরিস্থিতিতে সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও প্রশাসন দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রথম ১০০ দিনের অর্জনের মধ্যে তিনি নিউইয়র্কে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচি চালুর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ১.২ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বে ইউনিভার্সাল থ্রি-কে বাস্তবায়ন এবং দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিটি মালিকানাধীন পাঁচটি গ্রোসারি স্টোর চালুর পরিকল্পনা চলছে এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শহরের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

তবে ১০০ দিনের অগ্রগতির পাশাপাশি সমালোচনাও রয়েছে। নিউইয়র্কবাসীর একটি অংশ মনে করছে, শিক্ষা, আবাসন সংকট ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতি আশা করা হচ্ছে।

মেয়র নিজেও স্বীকার করেন, বাজেট ভারসাম্য রাখতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং প্রয়োজনে সম্পত্তি কর পুনর্বিবেচনার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। ফলে তার প্রথম ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড যতটা আলোচনায় এসেছে, ততটাই সামনে থাকা চ্যালেঞ্জও গুরুত্ব পাচ্ছে।

AS
আরও পড়ুন