পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে আবারো তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। রোববার (২৯ মার্চ) দখলকৃত জেরুজালেমের এই পবিত্র স্থান থেকে দুই নারী ও মসজিদের এক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ‘অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে গেছে তারা। ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, রোববার বিকেলে আল-আকসা প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে হঠাৎ দুই ফিলিস্তিনি নারীকে আটক করে ইসরাইলি পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পরেই মসজিদের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান রায়েদ জাগির-কে তার কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি।
এই গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বিশাল পুলিশ বহর নিয়ে আল-আকসায় অনুপ্রবেশ করেন। তাঁর এই উসকানিমূলক সফরের পরপরই মুসল্লি ও কর্মীদের ওপর ধরপাকড় শুরু হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে বেন-গভির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আল-আকসায় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কড়াকড়ি এবং নিয়মিত অভিযানের ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে।
২০০৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করে ইসরাইলি দখলদারদের মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে পুলিশ। এর বিরুদ্ধে মসজিদ পরিচালনাকারী ‘ইসলামিক ওয়াকফ’ বিভাগ বারবার প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও কর্ণপাত করছে না তেল আবিব।
মুসলমানদের কাছে আল-আকসা বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। অন্যদিকে, ইহুদিরা একে ‘টেম্পল মাউন্ট’ দাবি করে সেখানে তাদের ‘তৃতীয় মন্দির’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে পবিত্র এই স্থান থেকে ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলে জেরুজালেমকে ‘ইহুদিকরণের’ চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল এবং ১৯৮০ সালে ইসরাইলের সাথে এর সংযুক্তিকরণকে কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে।
ইরান 'অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ' চালাচ্ছে: জেডি ভ্যান্স
