ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি আরব দেশের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে দেওয়া এক চিঠিতে ইরান দাবি করেছে, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ এই ছয়টি দেশ তাদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে এই আগ্রাসনে সহায়তা করেছে।
জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এই অভিযোগ তুলে বলেন, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডান তাদের দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো থেকেই মূলত ইরানের ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
সাঈদ ইরাভানি চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, হামলায় ইরানের যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার এই ছয়টি দেশকে নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই দেশগুলোকে অবশ্যই ইরানকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
ইরানি প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত এই বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানাতে এবং প্রকৃত দায়ী পক্ষগুলোকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের এই নিষ্ক্রিয়তার কারণেই আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান এই সংঘাতের সূচনাকারী নয়। বরং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী আক্রান্ত হওয়ার পর তারা কেবল তাদের ‘আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার’ প্রয়োগ করেছে। যেসব দেশ এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে কিংবা তাদের ভূখণ্ড ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।
ইরানের এই অভিযোগ ও ক্ষতিপূরণ দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যু’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘে ইরানের চিঠি