ইরানে মার্কিন নৌ-অবরোধ কূটনৈতিক অগ্রগতির বাধা: ত্রিতা পার্সি

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১০:১৯ এএম

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ-অবরোধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে এবং এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অবরোধ কূটনৈতিক আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পার্সি যুক্তি দেন যে, অবরোধ আরোপের আগেই কূটনীতির মাধ্যমে ট্রাম্প তার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি অর্জন করেছিলেন। তিনি বলেন, “যখন তিনি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তখন তার ওপর থাকা প্রাথমিক চাপ অর্থাৎ যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কমে এসেছিল। তিনি যদি সেই পরিস্থিতি বজায় রেখে সময়কে নিজের পক্ষে ব্যবহার করতেন, তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকতেন। কারণ, ইরানিরা তখনো তাদের প্রধান দাবি ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ আদায় করতে পারেনি।

কিন্তু অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প বাজার থেকে আরও তেল সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়েই তেলের দাম অনেক বেশি। পার্সির মতে, সব অর্থনৈতিক সূচকই প্রমাণ করছে যে, এই অবরোধ ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতিকে কেবল খারাপই করছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইরানিদের আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে এই অবরোধের কোনো ভূমিকা নেই। বরং এটি বর্তমানে যেটুকু কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা ছিল, তাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা উভয়কেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

SN
আরও পড়ুন