বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে নতুন ও কঠোর নীতিমালা জারি করেছে ইরান। এখন থেকে এই জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজকে তেহরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত পরিমাণ ‘টোল’ বা মাশুল পরিশোধ করতে হবে।
সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
নৌচলাচল বিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল ‘লয়েড’স লিস্ট’ জানিয়েছে, ইরান ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (PGSA) নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। এই সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে চাওয়া জাহাজগুলোকে আগেভাগেই আবেদন করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি জাহাজকে অন্তত ৪০টি সুনির্দিষ্ট তথ্য সম্বলিত একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এতে জাহাজের মালিকানা, বীমা সংক্রান্ত নথি, ক্রু বা নাবিকদের তালিকা, বহনকৃত পণ্যের বিবরণ এবং যাত্রার শুরু ও গন্তব্যসহ যাবতীয় তথ্য থাকতে হবে। এই তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর ইরান সবুজ সংকেত দিলেই কেবল জাহাজটি প্রণালি পার হতে পারবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি মূলত ওই অঞ্চলে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অংশ। তবে টোলের পরিমাণ বা এটি আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেই দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবে। অর্থাৎ, মার্কিন মিত্রদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর ইরান এখন এই পথটিকে তাদের কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের ইউরেনিয়াম সরানোই যুদ্ধ শেষের শর্ত: নেতানিয়াহু
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ ও একতরফা’, রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা চীনের