যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালাতে সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দুইজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির পরমাণু কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ লক্ষ্য করে এই যৌথ অভিযান শুরু হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া পরমাণু সরঞ্জামগুলো উদ্ধারের জন্য সরাসরি কমান্ডো বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, অভিযান এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং সেখানে ইরানি স্থলবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র 'খারগ দ্বীপ' দখলের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি বিকল্প হিসেবে ইরানের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও নিবিড় বোমাবর্ষণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া, দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকি দূর করা এবং ইরানি জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের 'পরিবেশ তৈরি' করে দিতেই তারা এই অভিযান শুরু করেছিল। তবে গত মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে তাদের ঘোষিত সেই লক্ষ্যগুলো এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে। সেই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতেই পুনরায় হামলার এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
হরমুজে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে অনড় ইরান