যুদ্ধবিরতি আরও ২ মাস বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রাথমিক সমঝোতা

আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর জন্য দুই দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পৌঁছেছে। একই সাথে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এই খসড়া চুক্তিটি বাস্তবায়নে এখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির শর্তে বলা হয়েছে যে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ "অবাধ বা উম্মুক্ত" থাকবে এবং ইরান সংলগ্ন বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই ৬০ দিনের মেয়াদটি আলোচনার চূড়ান্ত সময়সীমা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে পারস্য উপসাগরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের পর এই সমঝোতার খবরটি সামনে এলো।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে এবং ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে থাকায় এটি যৌথভাবে পরিচালনার কথা বলে আসছে। তবে ওয়াশিংটন এই প্রণালির ওপর ইরানের যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা টোল আদায়ের নিয়ম সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি ওমান যদি এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ে ইরানকে সহায়তা করে, তবে ওমানকেও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের দেওয়া তিনটি শর্ত (হরমুজ প্রণালি উম্মুক্ত করা, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগ করা এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা) পূরণ না হলে কোনো চুক্তি হবে না।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের এই চুক্তির দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। চুক্তির আলোচনার সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে তারা জানিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত হলে ইরান নিজেই মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এবং তাদের জনগণকে তা জানাবে। এর আগ পর্যন্ত পশ্চিমা সূত্রের কোনো দাবিই বৈধ নয়।

চুক্তিতে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায় না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র খুঁজছেন না এবং ইরান কখনই অপমানের কূটনীতিতে জড়াবে না। তবে ইরান আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের পক্ষে অনড় রয়েছে, যেখানে ট্রাম্প ইরানের পুরো পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বন্ধের দাবিতে অবিচল।

এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই লেবাননে তীব্র হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বৈরুতেও নতুন করে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার জবাবে ইরান-পন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। লেবানন সরকার ইসরায়েলের সাথে আলাদাভাবে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা করলেও, ইরানের অবস্থান হলো—যেকোনো ধরনের স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত