ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনকে ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলার আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
 
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে জেলা পুলিশের একাধিক দল অংশ নেয়।
 
বুধবার (১৫ জুলাই) সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাঞ্চননগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছিল। জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানের শুরুতেই ডেভিড ইমনের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মোবাইল ফোন জব্দ করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
 
পুলিশের তথ্যমতে, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মো. মুসার ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক  তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
তাঁর বিরুদ্ধে বাকলিয়ার জোড়া হত্যা, পতেঙ্গায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ হত্যা, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের অপরাধচক্র পরিচালনায় ডেভিড ইমনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
 
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় সোমবার (১৩ জুলাই) ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তাঁর নিজ এলাকা ফটিকছড়িতে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
 
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, ‘কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
MCH/YA
আরও পড়ুন