টুঙ্গিপাড়ায় মেধাবী শিক্ষার্থী অন্তরের জীবনে ক্যান্সারের কালো ছায়া

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

এক সময় যে হাতে ছিল বই আর আগামীর স্বপ্ন গড়ার কলম, আজ সেই হাতেই ধরা চিকিৎসার রিপোর্ট। রিপোর্টের প্রতিটি পাতায় যেন লেখা রয়েছে এক নির্মম বাস্তবতার গল্প।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের মেধাবী শিক্ষার্থী অন্তর শেখ আজ ব্লাড ক্যান্সার (লিউকেমিয়া) আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অর্থাভাবে তার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে অসহায় পরিবারটি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কুশলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুলু মিয়া শেখ একজন সাধারণ কৃষক। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন তিনি। আর বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তার ছেলে অন্তর শেখ।

মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ অর্জন করে অন্তর। তার এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সবাই বিশ্বাস করতেন, একদিন অন্তর পরিবারের দারিদ্র্য দূর করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়বে।

কিন্তু সুখের সেই সময় বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এসএসসি পাসের কিছুদিন পর হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। মুহূর্তেই যেন ভেঙে পড়ে একটি স্বপ্নময় পরিবারের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা।

চিকিৎসকদের মতে, অন্তরের সুস্থতার জন্য দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এজন্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু একজন দরিদ্র কৃষকের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।

ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারটি। বসতভিটা ছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারের একমাত্র সম্বল গাভীটিও বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা ভুলু শেখ। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা সংগ্রহ করে এক মাসের মতো চিকিৎসা চালানো সম্ভব হলেও বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।

অন্তরের বাবা ভুলু শেখ বলেন, “আমি একজন গরিব কৃষক। নিজেও অসুস্থ থাকায় নিয়মিত কাজ করতে পারি না। ছেলের চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আবেদন—আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে অন্তরের মা বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে অনেক লেখাপড়া করবে, বড় মানুষ হবে। কিন্তু আজ ওর জীবন বাঁচানোই সবচেয়ে বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আর মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই।”

এদিকে নাতির সুস্থতার আশায় প্রতিদিন জায়নামাজে বসে অশ্রু ঝরাচ্ছেন অন্তরের বৃদ্ধা দাদী। পরিবারের সদস্যদের চোখে এখন শুধু উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা।

স্থানীয় বাসিন্দা তাহের শেখ বলেন, “অন্তর অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও মেধাবী ছেলে। ওর মতো ভালো ছাত্র এলাকায় খুব কমই আছে। ওর বাবা খুবই অসচ্ছল। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে ছেলেটার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”

প্রতিবেশী নবনী শিকদারও অন্তরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অন্তর আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। একটি মেধাবী প্রাণ আজ বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে। সমাজের মানবিক মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামান্য সহযোগিতাই পারে অন্তরের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে এবং তাকে ফিরিয়ে দিতে তার স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ।

MCH/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত