নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন এক যুবকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির অদূরে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী নামের শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী স্থানীয় বাসিন্দা নলিনী কান্তের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার দুপুরের পর থেকে নন্দিনীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। রাতেই বিষয়টি নিয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলেও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন শিশুটির স্বজনরা।

মঙ্গলবার সকালে গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হলে সেখানে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে মাটিচাপা দেওয়া বস্তার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রতিবেশী এক যুবকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বসতঘরের বিভিন্ন অংশ এবং ঘরের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ প্রশাসনের বিভিন্ন যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। 

দুপুরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক দফা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে অবস্থান করা কয়েকজনকে নিরাপত্তার স্বার্থে সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বহনকারী গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ যথাসময়ে গ্রহণ না করার অভিযোগ ওঠায় আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

MCH/AHA
আরও পড়ুন