বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন কিছু রাত আসে, যেগুলো শুধু একটি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না; বদলে দেয় ইতিহাসের পাতাও। হিউস্টনে সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ৫–১ গোলের জয় ছিল ঠিক তেমনই এক রাত। বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের রেকর্ডবইয়েও নিজেদের জন্য নতুন একটি অধ্যায় লিখেছে ডাচরা।
গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই সুইডেনকে চেপে ধরে নেদারল্যান্ডস। সেই আধিপত্যের প্রতিফলন দেখা যায় স্কোরলাইনেও। তবে এই জয়কে বিশেষ করে তুলেছে অন্য একটি পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল-কে পেছনে ফেলেছে ডাচরা। এতদিন ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থেকে যৌথভাবে রেকর্ডটির মালিক ছিল দুই দল। এখন শীর্ষস্থানটি এককভাবে নেদারল্যান্ডসের।
রেকর্ডটির মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে দেয় এর ইতিহাস। ব্রাজিলের সেই কীর্তি গড়ে উঠেছিল কিংবদন্তি পেলে-র নেতৃত্বে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে। প্রায় ছয় দশক ধরে অক্ষত থাকা সেই মাইলফলকই এবার নিজেদের করে নিল ডাচরা।
এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার সূচনা ২০১০ বিশ্বকাপের পর। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই আসরের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা-র গোলে স্পেন-এর কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছিল নেদারল্যান্ডসের। সেটিই বিশ্বকাপে তাদের সর্বশেষ পরাজয়। এরপর ২০১৪, ২০২২ এবং চলতি আসরে নির্ধারিত কিংবা অতিরিক্ত সময়ে কোনো ম্যাচে হারেনি তারা। টাইব্রেকারে বিদায় নিলেও ফিফার হিসাব অনুযায়ী সেসব ম্যাচ ড্র হিসেবে গণ্য হওয়ায় অপরাজিত থাকার ধারাও অটুট রয়েছে।
সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই ব্রায়ান ব্রবি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বিরতির পর ডাচদের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। কোডি গাকপো দুটি গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন, আর শেষদিকে ক্রিসেনসিও সামারভিল পঞ্চম গোলটি করে জয়কে পূর্ণতা দেন।
সুইডেনের হয়ে অ্যান্থনি এলাঙ্গা একবার ব্যবধান কমালেও ম্যাচে ফেরার মতো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি দলটি।
দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ডস। তবে পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় বার্তা দিয়েছে তাদের এই জয়। বিশ্বকাপের শিরোপা এখনও অধরা, কিন্তু ধারাবাহিকতা, পরিণত ফুটবল এবং ইতিহাস গড়ার সক্ষমতায় ডাচরা আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তাদের কখনোই সমীকরণের বাইরে রাখা যায় না।
'কুরাসাওতে আমার ভাষ্কর্য বানানো উচিৎ'
কারখানা থেকে বিশ্বকাপ মঞ্চে ডেনিজ উন্ডাভের উত্থান
ফের ব্রাজিলের গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলো জার্মানি