ছাদ বাগানে ১১ জাতের আনার চাষ, সফলতার স্বপ্ন প্রবাসফেরত যুবকের

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামের প্রবাসফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস বাড়ির ছাদে ১১ জাতের আনার চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। শখের বশে শুরু করা ছাদ বাগান এখন সফলতার দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।

সরেজমিনে মনোজিৎ বিশ্বাসের ছাদ বাগান ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও পাকা ফলের ভার, কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর রঙিন ফুলের সমাহারে ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নয়নাভিরাম দৃশ্য। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন বিদেশে কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে আধুনিক ফলচাষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন মনোজিৎ বিশ্বাস। শুরুতে কয়েকটি আনার গাছ দিয়ে ছাদ বাগান শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহ করেন। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে আনার ধরেছে।

মনোজিৎ বিশ্বাস বলেন, “বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফলচাষের নানা পদ্ধতি কাছ থেকে দেখেছি। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং সময়মতো সেচ দেওয়ার কারণে ভালো ফলন পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আনার চাষ করতে চাই।”

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, “কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিৎ বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ছাদ বাগান বিষমুক্ত ফল উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং অব্যবহৃত স্থানকে উৎপাদনশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসফেরত তরুণদের এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ফলচাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সঠিক পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে ছাদ বাগান হতে পারে লাভজনক কৃষি উদ্যোগের একটি কার্যকর মডেল।

YA
আরও পড়ুন