৪ মাস ধরে কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল খামেনির মরদেহ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

মৃত্যুর দীর্ঘ ৪ মাসেরও বেশি সময় পর আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন কার্যাক্রম। তবে এত দীর্ঘ সময় ধরে তার মরদেহ কীভাবে অক্ষত ও সংরক্ষিত রাখা হলো, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র কৌতুহল এবং আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা তৈরি হয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া মন্তব্যে জানান, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে-এমন ধারণার চেয়ে শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামী বিধান অনুযায়ী রাসায়নিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, শিয়া আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্ব এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি থাকতে পারে। তার মতে, মরদেহ যদি পুরোপুরি অক্ষত থাকত, তাহলে বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন, দাফনের স্থান একাধিকবার পরিবর্তন বা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সময়সূচি অনিশ্চিত রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এতে বোঝা যায়, মরদেহ সংরক্ষণ করা হলেও তা প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় রাখা সম্ভব হয়নি।

এরই মধ্যে খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সরকারি সূত্রের ধারণা, এ অনুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে।

এদিকে, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কোনো ধরনের হামলা না চালানোর কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।

উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি টানা ৩৬ বছর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: ফক্স নিউজ, রয়টার্স

NM/YA
আরও পড়ুন