টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলায় ব্যাপক দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার অন্তত ৯৭টি স্থানে ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধসের মধ্যে বিলাইছড়ি উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং অন্যান্য এলাকায় মিলিয়ে মোট ৯৭টি স্থানে ধস নেমেছে। এতে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুত রাখা ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৩৪টিতে ৪ হাজার ১৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিতদের জন্য তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রাঙামাটি পৌরসভা, সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলা, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর এবং বিলাইছড়ির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত ব্যক্তিরা অবস্থান করছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।’ তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
ফিফা সভাপতি-রেফারির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন নিয়ে থানায় মিসর সমর্থক
পাহাড়ধসে দুই জেলায় ৭ জনের মৃত্যু
অবশেষে আখাউড়া বন্দর দিয়ে ভারতে যাত্রী পারাপার শুরু