আর্জেন্টিনার কাছে সেমিফাইনালে ২-১ ব্যবধানে হেরে আরও একবার ভেঙে গেছে ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ৬০ বছরের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বিদায়ের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টমাস টুখেলের দলকে। তবে বিশ্বকাপে তাদের পথচলা এখনই শেষ হচ্ছে না। এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, যেখানে প্রতিপক্ষ আরেক ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্স। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়া ফরাসিরাও এখন শেষ ম্যাচে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক জিতে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি দুই দলের কাছেই এক ধরনের সান্ত্বনার লড়াই।
ইংল্যান্ডের কাছে এই ম্যাচটি যেমন বিশ্বকাপের হতাশাজনক সমাপ্তিকে কিছুটা হলেও ইতিবাচক করে তোলার সুযোগ, তেমনি ফ্রান্সের কাছেও এটি শেষবারের মতো নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার মঞ্চ। ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর দুই দলই এখন অন্তত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে চাইবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের অতীত সুখকর নয়। এর আগে দুইবার এই ম্যাচ খেলেও কোনোবারই জয় পায়নি তারা। ১৯৯০ সালে স্বাগতিক ইতালির কাছে ২-১ ব্যবধানে এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল ‘থ্রি লায়ন্স’। অন্যদিকে, এই ম্যাচে ফ্রান্সের রেকর্ড তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। তিনবার অংশ নিয়ে দুইবার জয় পেয়েছে তারা। ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ এবং ১৯৮৬ সালে বেলজিয়ামকে অতিরিক্ত সময়ে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল ফরাসিরা। তবে ১৯৮২ সালে পোল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরে ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে হয়েছিল।
ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে আরও একটি কারণে। এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ের দেশমের ডাগআউটে শেষ ম্যাচ। তাই জয় দিয়েই তাকে বিদায় জানাতে চাইবে তার শিষ্যরা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইও অপেক্ষা করছে কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে এই ফরাসি তারকার। বর্তমানে টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় থাকলেও অ্যাসিস্টে পিছিয়ে থাকায় অবস্থান দ্বিতীয়। এই ম্যাচে একটি গোল কিংবা অ্যাসিস্টই তাকে আবারও শীর্ষে তুলে দিতে পারে।
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ আয়োজনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ বাণিজ্যিক। এই ম্যাচের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচারস্বত্ব এবং বিজ্ঞাপন থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করে ফিফা ও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের সুযোগও থাকে দুই দলের সামনে। একই সঙ্গে সেমিফাইনালে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে অন্তত একটি জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করার মানসিক তাগিদও এই ম্যাচকে বাড়তি গুরুত্ব এনে দেয়।
বিশ্বকাপের প্রথম আসর ১৯৩০ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী কোনো ম্যাচ ছিল না। তবে ১৯৩৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ থেকেই এই প্রথা চালু হয়। সেই প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছিল জার্মানি। এরপর থেকেই বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে এই সান্ত্বনার লড়াই।
বিশ্বকাপজয়ীদের বিশেষ আংটি দেবে ফিফা
প্রিয় শিষ্য নাকি নিজের দেশ, কার পক্ষে গার্দিওলা
যেসব কৌশলে স্পেনকে স্তব্ধ করতে পারে আর্জেন্টিনা