কেন আন্দোলন প্রত্যাহার করল সিজেপি?

৩৭ দিনের আন্দোলনের পর স্বস্তিতে অভিজিৎ, ‘এটা কেবল শুরু’

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

ভারতে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের পর সাফল্য দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়ার পর সংগঠনটি আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় আন্দোলনেই সফলতার মুখ দেখেছে সিজেপি।

আন্দোলনের সফল সমাপ্তির পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তবে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, এটি শেষ নয়, বরং নতুন পথচলার শুরু।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, “এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি। নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠে সারাদিন কী হবে বা এরপর কী করতে হবে এ নিয়ে আর ভাবতে হচ্ছে না।”

তিনি জানান, গত ৩৭ দিনের আন্দোলন ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে এই সাফল্যকে চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখতে চান না তিনি। অভিজিৎ বলেন, “এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।”

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ দিপক। পরে তরুণদের অংশগ্রহণে এটি ধীরে ধীরে একটি বড় আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ নামে পরিচয় দিতেন। নিট প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনার দায় নিয়ে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এ দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো তরুণ জড়ো হন।

অবশেষে আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার। এরপর সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, এই সাফল্য সহজে আসেনি। অনেকে আন্দোলনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সমর্থকেরা পাশে ছিলেন। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকায় যন্তর মন্তরে উপস্থিত সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “যারা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানাই। দেশের জন্য আপনারা যা করেছেন, আমি সত্যিই তার প্রশংসা করি।”

আন্দোলনের সমালোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান অভিজিৎ। তার মতে, গঠনমূলক সমালোচনা ও কঠিন প্রশ্ন তাদের আরও ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা করেছে এবং আন্দোলনের সফল পরিণতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

AM
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত