হরমুজে নতুন নৌ চলাচল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ওমানে বৈঠক: আরাঘচি

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ চলাচল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়েই ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ইয়েমেন সংঘাত বা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো বিষয় রাখা হয়নি।

লন্ডনভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, মাসকাটের বৈঠকে ইরান, উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় প্রতিবেশী দেশ এবং ইরাক অংশ নেবে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য নতুন ব্যবস্থা ও পথ নির্ধারণ করা।

আরাঘচি জানান, ইরান ও ওমান এরই মধ্যে নতুন নৌপথ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় মানচিত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে এবং একটি যৌথ বিবৃতি তৈরি করা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর কাছে চুক্তির বিস্তারিত ও মানচিত্র উপস্থাপনের পর তা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার নিবন্ধনের জন্য পাঠানো হবে।

তবে ইরান-ওমানের এই সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নয় বলে স্পষ্ট করেছেন আরাঘচি। তাঁর ভাষ্য, প্রণালি পুনরায় খোলার পরিস্থিতি তৈরি হলে নৌ চলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই কাঠামো ও ব্যবস্থা নির্ধারণ করছে এই সমঝোতা। পাশাপাশি হরমুজ দিয়ে জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার নতুন পথও এতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ফিরে গিয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপই সামুদ্রিক নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ। ইরান-ওমানের সমঝোতা কেবল নতুন কাঠামো ও নৌপথ নির্ধারণ করছে, যা ইরানের শর্ত পূরণ হলে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ইরানের অবস্থানও তুলে ধরেন আরাঘচি। তিনি বলেন, বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা তৈরি ও সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।

তবে মাসকাটের বৈঠককে কোনো নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান আরাঘচি। তাঁর মতে, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে এমন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। বরং এটি আস্থা তৈরির একটি পদক্ষেপ, যা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার পথ তৈরি করতে এবং বাইরের হস্তক্ষেপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, মাসকাটের বৈঠকে ইয়েমেন সংঘাত নিয়েও আলোচনা হবে না। এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান হলো, সামরিক উপায়ে ইয়েমেন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। দেশটির ভবিষ্যৎ ইয়েমেনিদের নিজেদের সংলাপ ও একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, যদিও ইয়েমেন বা আঞ্চলিক বিরোধ বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নেই, তবু প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপ পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে, ভুল বোঝাবুঝি কমাতে এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন