টিফিনের সময় শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়েছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত। এরপর আর ফিরে আসেনি সে। কয়েক ঘণ্টা পর বাজারের একটি ভবনের তৃতীয় তলা থেকে উদ্ধার হয় তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র। দুই দিনেও সন্ধান না মেলায় এবার অনন্তকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজলী এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বীর উজলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও পরিচয়পত্র পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। দ্রুত অনন্তকে উদ্ধার করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রুকন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সবুর, লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মতিউর রহমান, বীর উজলী মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক বাবু সুনিল চন্দ্র দাস এবং বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ রানার ছেলে তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ৩। গত মঙ্গলবার টিফিনের সময় খাবার খেতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময়েও তার সন্ধান না পাওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, টিফিনের সময় অনন্ত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। বিষয়টি জানার পর শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু করেন।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘অনন্ত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছি। পরে তার রক্তমাখা জামা পাওয়ার খবর পাই। এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বীর উজলী বাজারের মফিজ উদ্দিনের ভবনের তৃতীয় তলা থেকে অনন্তের রক্তমাখা জামা, জুতা ও বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম এসব আলামত উদ্ধার করেন।
নিখোঁজ অনন্তের বাবা সোহাগ রানা বলেন, ‘এখনো আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাইনি। তাকে খুঁজে দিন।’
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অনন্ত নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মিয়ানমারে আটক ২৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি
লক্ষ্মীছড়ির ধুরুং নদী থেকে অবৈধ পাহাড়িকাঠ ও বাঁশ উদ্ধার
এক মাসেই শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায়, আসামির ফাঁসি