মুক্ত আকাশে উড়ে গেল শিকার করা অর্ধশতাধিক ঘুঘু পাখি

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালে শিকার করা প্রায় অর্ধশত ঘুঘু পাখি এক সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাটে খাঁচাবন্দী পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে মুক্ত আকাশে উড়ে যায় পাখিগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুর্গম ধোলাই চরে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল পেতে বন্য পাখি শিকার করে আসছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় প্রশাসন ও স্থানীয়দের চোখ এড়িয়ে শিকার করা এসব পাখি আশপাশের বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে মাসুদ নামের ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি প্রায় ৬০টি ঘুঘু পাখি বিক্রির জন্য মমিন খার হাটে নিয়ে আসেন। প্রতি জোড়া ১০০ টাকা দরে কয়েকটি পাখি বিক্রিও করেন তিনি। বিষয়টি নজরে আসে ফরিদপুরের সাংবাদিক মেহেদী সোহেলের।

পরে সাংবাদিক মেহেদী সোহেল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখি শিকারের বিষয়ে জানতে চান এবং ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় শিকারি মাসুদকে বন্যপ্রাণী শিকার ও বিক্রির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উপায় না দেখে খাঁচায় বন্দী থাকা প্রায় অর্ধশত ঘুঘু পাখি ছেড়ে দেন।

খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই পাখিগুলো আকাশে উড়ে যায়। এতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় পাখিগুলো।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, পাখি ও বন্যপ্রাণী শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, ‘সচেতন নাগরিকেরা এ ধরনের শিকারিদের শনাক্ত করে প্রশাসনকে খবর দিলে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ও পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

MCH
আরও পড়ুন