লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে সরিয়ে প্রত্যাশা কি পূরণ হলো?

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম

গাদ্দাফির পতনের ১৫ বছর পরও রাজনৈতিক বিভাজন, সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অস্থির লিবিয়া। দেশটিকে দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত করে রাখা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে এক ছাতার নিচে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো নতুন করে উদ্যোগ জোরদার করছে।

২০১১ সালে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে দেশটি পরস্পরবিরোধী সরকার, রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলভিত্তিক রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ দেশটির স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হয়ে আছে। রাজধানী ত্রিপোলিকেন্দ্রিক প্রশাসন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাব রয়েছে।

এই বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার ও জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে মিসর, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ লিবিয়ার সংঘাতের সঙ্গে এসব দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করতে শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা যথেষ্ট নয়। দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো, সামরিক বাহিনী, তেলসম্পদ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে। ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটিই হতে পারে যেকোনো সমঝোতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

লিবিয়ার তেলসম্পদও এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ তেলসম্পদসমৃদ্ধ দেশটির অর্থনীতি মূলত জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরশীল। তেল উৎপাদন ও রাজস্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা দেশটির বিভাজনকে আরও জটিল করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যদি পরস্পরের স্বার্থের সমন্বয় ঘটিয়ে লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করতে পারে, তাহলে দীর্ঘ অস্থিরতার অবসানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় নতুন প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।

গাদ্দাফির পতনের দেড় দশক পর লিবিয়ার সামনে তাই মূল প্রশ্ন—বিদেশি শক্তিগুলোর নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ কি দেশটির দীর্ঘস্থায়ী বিভাজন কাটিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারবে? এর উত্তর নির্ভর করবে লিবিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে তার ওপর।

সূত্র: আল জাজিরা

Maz
আরও পড়ুন